সংবাদ

৭ বছরেও হলো না স্থায়ী বাঁধ, গোয়ালন্দে নদীভাঙনে বাড়ছে হাহাকার


??? ?????, ????????? (???????)
??? ?????, ????????? (???????)
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম

৭ বছরেও হলো না স্থায়ী বাঁধ, গোয়ালন্দে নদীভাঙনে বাড়ছে হাহাকার
???????? ???????? ??????? ???????? ??????? ????? ???? ????? ????? ????? ??? ?????? ???? ???? ??? : ?????

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় পদ্মা নদীর হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিনে উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউয়াজানি ও মুন্সিবাজার এলাকায় বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বসতভিটা ও আবাদি জমি হারানোর শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে পদ্মাপাড়ের মানুষের।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবছর ভাঙন শুরু হলে সাময়িকভাবে কিছু জিওব্যাগ ফেলা হয়। কিন্তু স্থায়ী বাঁধ না হওয়ায় প্রতিবছরই নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে বিঘার পর বিঘা জমি। এভাবেই ধীরে ধীরে মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে দেবগ্রাম ইউনিয়ন। অনেক পরিবার ইতিমধ্যে ভিটেমাটি হারিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বহুল আলোচিত দৌলতদিয়া ঘাট আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় ৬ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী নদীতীর রক্ষা বাঁধের পরিকল্পনা থাকলেও গত সাত বছরেও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। ফলে দেবগ্রাম ইউনিয়নে ভাঙন সমস্যা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সাম্প্রতিক ভাঙনে প্রায় ১০ বিঘা কৃষিজমি নদীতে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে বেথুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, কবরস্থান, বাজার, ঈদগাহসহ কয়েক শ বসতবাড়ি।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জুলহাস সরদার বলেন, ‘আমার বাপের ১০০ বিঘা জমি ছিল। ভাঙতে ভাঙতে এখন আমরা ছয় ভাইয়ের মাত্র ছয় বিঘা আবাদি জমি আছে। বর্তমানে ধানখেতে থোড় এসেছে, এই সময়ে জমিটা নদী নিয়ে গেলে আমরা পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে যাব।’

একই আশঙ্কার কথা জানালেন কৃষক খবির সরদার ও লোকমান সরদার। তারা জানান, গত কয়েক দিনে কাউয়াজানি ও মুন্সিবাজার এলাকার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলি জমি যেকোনো সময় নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, ‘অসময়ের এই ভাঙনে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ভারপ্রাপ্ত) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাজমিনুর রহমান বলেন, ‘ইতিমধ্যে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকিতে থাকলে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


৭ বছরেও হলো না স্থায়ী বাঁধ, গোয়ালন্দে নদীভাঙনে বাড়ছে হাহাকার

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় পদ্মা নদীর হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিনে উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউয়াজানি ও মুন্সিবাজার এলাকায় বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বসতভিটা ও আবাদি জমি হারানোর শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে পদ্মাপাড়ের মানুষের।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবছর ভাঙন শুরু হলে সাময়িকভাবে কিছু জিওব্যাগ ফেলা হয়। কিন্তু স্থায়ী বাঁধ না হওয়ায় প্রতিবছরই নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে বিঘার পর বিঘা জমি। এভাবেই ধীরে ধীরে মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে দেবগ্রাম ইউনিয়ন। অনেক পরিবার ইতিমধ্যে ভিটেমাটি হারিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বহুল আলোচিত দৌলতদিয়া ঘাট আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় ৬ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী নদীতীর রক্ষা বাঁধের পরিকল্পনা থাকলেও গত সাত বছরেও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। ফলে দেবগ্রাম ইউনিয়নে ভাঙন সমস্যা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সাম্প্রতিক ভাঙনে প্রায় ১০ বিঘা কৃষিজমি নদীতে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে বেথুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, কবরস্থান, বাজার, ঈদগাহসহ কয়েক শ বসতবাড়ি।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জুলহাস সরদার বলেন, ‘আমার বাপের ১০০ বিঘা জমি ছিল। ভাঙতে ভাঙতে এখন আমরা ছয় ভাইয়ের মাত্র ছয় বিঘা আবাদি জমি আছে। বর্তমানে ধানখেতে থোড় এসেছে, এই সময়ে জমিটা নদী নিয়ে গেলে আমরা পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে যাব।’

একই আশঙ্কার কথা জানালেন কৃষক খবির সরদার ও লোকমান সরদার। তারা জানান, গত কয়েক দিনে কাউয়াজানি ও মুন্সিবাজার এলাকার ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলি জমি যেকোনো সময় নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, ‘অসময়ের এই ভাঙনে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ভারপ্রাপ্ত) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাজমিনুর রহমান বলেন, ‘ইতিমধ্যে একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঝুঁকিতে থাকলে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত