সংবাদ

বার নির্বাচনে অনিয়ম, প্রধানমন্ত্রীকে ইউরোপীয় বারের চিঠি


????? ??????? ???????
????? ??????? ???????
প্রকাশ: ১ মে ২০২৬, ১০:২৭ পিএম

বার নির্বাচনে অনিয়ম, প্রধানমন্ত্রীকে ইউরোপীয় বারের চিঠি
???????? ?? ????? ??????? ? ???????? ?? ????? (???????)

বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জেলা আইনজীবি সমিতির (বার) নির্বাচনে ‘গুরুতর অনিয়মের’ অভিযোগ তুলেছে ইউরোপীয় আইনজীবীদের একটি সংস্থা। তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চিঠি দিয়ে এসব ‘অনিয়ম’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ইউরোপের বার অ্যাসোসিয়েশন এবং আইনজীবি সমিতিগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা- কাউন্সিল অফ বারস অ্যান্ড ল' সোসাইটিজ অফ ইউরোপ (সিসিবিই) এ চিঠি পাঠিয়েছে ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ৩০ এপ্রিল লেখা ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন সিসিবিই সভাপতি রোমান জাভ্‌র্শেক। ‘বিভিন্ন জেলা বার নির্বাচনে অনিয়ম’ শীর্ষক চিঠিটি সিসিবিই তাদের ফেইসবুক পেইজে প্রকাশ করেছে।

ইউরোপের ৪৬টি দেশের ১০ লাখেরও বেশি আইনজীবীর প্রতিনিধিত্বকারী এই সংস্থাটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, বাংলাদেশে আইনজীবীদের ন্যায্য অধিকার ‘ক্ষুণ্ণ হচ্ছে’।

সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি হুমায়ূন কবির মঞ্জু'র কাছে চিঠির বিষয়ে জনতে চাইলে তিনি বলেন, “এটি তার নলেজ নেই।”

তবে সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু চিঠির কথা নিশ্চিত করে বলেন, “বার নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে ইউরোপের আইনজীবীদের উদ্বেগ আমাদের জন্য লজ্জার।” আইনঅঙ্গনে এমন ‘অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ড’ বন্ধে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ফ্রান্সভিত্তিক সংগঠন জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ (জেএমবিএফ)-এর তথ্যের বরাত দিয়ে সিসিবিই জানিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের একাধিক জেলা বার ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছে।  মনোনয়নপত্র জমাদানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।  কিছু প্রার্থীকে ‘শারীরিকভাবে হয়রানি’ করা হয়েছে, ‘ফ্যাসিস্টদের সহযোগী’ আখ্যা দিয়ে মনোনয়নপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে বলেও এই সংগঠনটি তাদের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেছে। 

তাদের দাবি, পুলিশ হস্তক্ষেপ করে প্রার্থিতা প্রত্যাহারে চাপ দিয়েছে, পূর্ববর্তী সরকারের সহযোগী আখ্যা দিয়ে অনেককে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

চিঠিতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে তিনিটি দাবি জানানো হয়েছে।  দাবিগুলো হলো- বার নির্বাচনে সকল আইনজীবীর সমান ও বৈষম্যহীন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, নির্বাচনী অনিয়ম, বাধাদান ও সহিংসতার তদন্ত করা ও সকল আইনজীবী যেন ভয়ভীতি ও হয়রানি ছাড়াই পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন তা নিশ্চিত করা

সিসিবিই চিঠিতে জাতিসংঘের আইনজীবীদের ভূমিকা সংক্রান্ত মৌলিক নীতিমালার ১৬, ১৭, ১৮ ও ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেছে, যা আইনজীবীদের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করে। পাশাপাশি সংস্থাটি কাউন্সিল অফ ইউরোপের আইন পেশার সুরক্ষা সংক্রান্ত নতুন কনভেনশনে বাংলাদেশকে স্বাক্ষর ও অনুমোদন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া সদস্য প্রার্থী উপমা বিশ্বাস বলেনে, “সিসিবিই এর মতো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ধরনের বিষয় তুলে ধরে, তখন বিষয়টির গুরুত্ব বোঝা যায়। আইনজীবীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকার এবং বার নির্বাচনে সবার সমানভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ- এগুলো আইনের শাসনের মূল ভিত্তি।”

তিনি বলেন,  'আমার নমিনেশন গ্রহণ করা হলে আমি খ্রিস্টান সম্প্রদায় থেকে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রথম প্রার্থী হতাম। আর একটি কথা- মানুষ আমাদের কাছে আসে ন্যায়বিচারের আশায়। কিন্তু আমরা যদি নিজেরাই নিজেদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে সেই আস্থার জায়গাটা কীভাবে ধরে রাখবো?”

এদিকে, ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আইনি সেল ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স। এনসিপির দাবি, প্রতিটি ধাপে ‘পূর্বপরিকল্পিত অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও ব্যাপক কারচুপি হয়েছে’। এর জন্য বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেলকে দায়ী করে তীব্র প্রতিবাদ জানায় সংগঠনটি।

শুক্রবার (১ মে) এনসিপির ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স অ্যালায়েন্সের মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, “গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে পূর্বপরিকল্পিত অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও ব্যাপক কারচুপির হয়েছে। নির্বাচন কমিশন গঠন থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেলের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে ছিল। যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অপব্যবহার করে এই কারচুপি করা হয়।”

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


বার নির্বাচনে অনিয়ম, প্রধানমন্ত্রীকে ইউরোপীয় বারের চিঠি

প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জেলা আইনজীবি সমিতির (বার) নির্বাচনে ‘গুরুতর অনিয়মের’ অভিযোগ তুলেছে ইউরোপীয় আইনজীবীদের একটি সংস্থা। তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চিঠি দিয়ে এসব ‘অনিয়ম’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ইউরোপের বার অ্যাসোসিয়েশন এবং আইনজীবি সমিতিগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা- কাউন্সিল অফ বারস অ্যান্ড ল' সোসাইটিজ অফ ইউরোপ (সিসিবিই) এ চিঠি পাঠিয়েছে ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ৩০ এপ্রিল লেখা ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন সিসিবিই সভাপতি রোমান জাভ্‌র্শেক। ‘বিভিন্ন জেলা বার নির্বাচনে অনিয়ম’ শীর্ষক চিঠিটি সিসিবিই তাদের ফেইসবুক পেইজে প্রকাশ করেছে।

ইউরোপের ৪৬টি দেশের ১০ লাখেরও বেশি আইনজীবীর প্রতিনিধিত্বকারী এই সংস্থাটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, বাংলাদেশে আইনজীবীদের ন্যায্য অধিকার ‘ক্ষুণ্ণ হচ্ছে’।

সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি হুমায়ূন কবির মঞ্জু'র কাছে চিঠির বিষয়ে জনতে চাইলে তিনি বলেন, “এটি তার নলেজ নেই।”

তবে সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু চিঠির কথা নিশ্চিত করে বলেন, “বার নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে ইউরোপের আইনজীবীদের উদ্বেগ আমাদের জন্য লজ্জার।” আইনঅঙ্গনে এমন ‘অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ড’ বন্ধে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ফ্রান্সভিত্তিক সংগঠন জাস্টিস মেকার্স বাংলাদেশ (জেএমবিএফ)-এর তথ্যের বরাত দিয়ে সিসিবিই জানিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশের একাধিক জেলা বার ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছে।  মনোনয়নপত্র জমাদানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।  কিছু প্রার্থীকে ‘শারীরিকভাবে হয়রানি’ করা হয়েছে, ‘ফ্যাসিস্টদের সহযোগী’ আখ্যা দিয়ে মনোনয়নপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে বলেও এই সংগঠনটি তাদের পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করেছে। 

তাদের দাবি, পুলিশ হস্তক্ষেপ করে প্রার্থিতা প্রত্যাহারে চাপ দিয়েছে, পূর্ববর্তী সরকারের সহযোগী আখ্যা দিয়ে অনেককে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

চিঠিতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে তিনিটি দাবি জানানো হয়েছে।  দাবিগুলো হলো- বার নির্বাচনে সকল আইনজীবীর সমান ও বৈষম্যহীন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, নির্বাচনী অনিয়ম, বাধাদান ও সহিংসতার তদন্ত করা ও সকল আইনজীবী যেন ভয়ভীতি ও হয়রানি ছাড়াই পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন তা নিশ্চিত করা

সিসিবিই চিঠিতে জাতিসংঘের আইনজীবীদের ভূমিকা সংক্রান্ত মৌলিক নীতিমালার ১৬, ১৭, ১৮ ও ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেছে, যা আইনজীবীদের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করে। পাশাপাশি সংস্থাটি কাউন্সিল অফ ইউরোপের আইন পেশার সুরক্ষা সংক্রান্ত নতুন কনভেনশনে বাংলাদেশকে স্বাক্ষর ও অনুমোদন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনে মনোনয়ন বাতিল হওয়া সদস্য প্রার্থী উপমা বিশ্বাস বলেনে, “সিসিবিই এর মতো একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ধরনের বিষয় তুলে ধরে, তখন বিষয়টির গুরুত্ব বোঝা যায়। আইনজীবীদের স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকার এবং বার নির্বাচনে সবার সমানভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ- এগুলো আইনের শাসনের মূল ভিত্তি।”

তিনি বলেন,  'আমার নমিনেশন গ্রহণ করা হলে আমি খ্রিস্টান সম্প্রদায় থেকে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রথম প্রার্থী হতাম। আর একটি কথা- মানুষ আমাদের কাছে আসে ন্যায়বিচারের আশায়। কিন্তু আমরা যদি নিজেরাই নিজেদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে সেই আস্থার জায়গাটা কীভাবে ধরে রাখবো?”

এদিকে, ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আইনি সেল ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স। এনসিপির দাবি, প্রতিটি ধাপে ‘পূর্বপরিকল্পিত অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও ব্যাপক কারচুপি হয়েছে’। এর জন্য বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেলকে দায়ী করে তীব্র প্রতিবাদ জানায় সংগঠনটি।

শুক্রবার (১ মে) এনসিপির ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স অ্যালায়েন্সের মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, “গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে পূর্বপরিকল্পিত অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও ব্যাপক কারচুপির হয়েছে। নির্বাচন কমিশন গঠন থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেলের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে ছিল। যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অপব্যবহার করে এই কারচুপি করা হয়।”


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত