সংবাদ

বার বার গুলিবর্ষণে বাগেরহাটে উত্তেজনা


?????????, ????????
?????????, ????????
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, ১০:০৯ পিএম

বার বার গুলিবর্ষণে বাগেরহাটে উত্তেজনা
?????? ????? ???? ??? ???????????? ??????? ????? ?? ?? ??????? ???????? ?????????? ????? ???????? ????? ??????

গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তৃতীয়বারের মতো গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটলো বাগেরহাটে।চিতলমারীতে পুলিশ সেজে কলেজছাত্রকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে মোল্লাহাটে গুলিবিদ্ধ হয়ে ব্যবসায়ী নিহত হন। কয়েকদিন পর তার কর্মচারী গুলিবিদ্ধ হন।

দুই উপজেলায় তিনটি গুলির ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। মোল্লার হাটে ব্যবসায়ীকে গুলি করার পর লাশ মহাসড়কের পাশে, কয়েকদিন পর তার কর্মচারী বাজার থেকে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন। আর তৃতীয়টি ঘটেছে চিতলমারীতে। প্রত্যন্ত গ্রামে বাড়িতে ঢুকে পুলিশ সেজে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সন্ত্রাসীরা দিনের আলোতেও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার শিবপুর গ্রামে বিকেলে বাড়ির উঠানে বাবা-চাচার সঙ্গে কথা বলছিলেন আমির হামজা নামের কলেজছাত্র। হঠাৎ তিনটি মোটরসাইকেলে এসে হাজির কয়েকজন যুবক। মাথায় হেলমেট। পরিচয়- পুলিশ। ধাওয়া করে পাশের খালের পাড়ে গুলি করে চলে যায় তারা। খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের এই শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এই ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়। এটি বাগেরহাটের মানুষের মনে গভীর আতঙ্ক তৈরি করেছে। কারণ দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তৃতীয়বারের মতো এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটল।

এর আগে ১৪ মার্চ রাতে মোল্লাহাট উপজেলা সদর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন সোহাগ শেখ (৪২) নামের এক ব্যবসায়ী। স্থানীয়রা জানান, ব্যবসা নিয়ে কোনো বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।

ওই ঘটনার মাত্র সাত দিন আগে ৭ মার্চ রাতে একই উপজেলার কাহালপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় মহাসড়কের পাশ থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ওই ব্যবসায়ীর কর্মচারী নূর ইসলামকে (২৭)। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান স্থানীয়রা। প্রাণে বেঁচে গেলেও এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।

কলেজছাত্র আমির হামজার পরিবার বলছে, তাদের কারও সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। তাহলে কেন এলোপাতাড়ি গুলি? প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়েও।

ঘটনার পর বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শামীম হোসেন জানিয়েছেন, জেলা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা সন্ত্রাসীদের শনাক্তে কাজ শুরু করেছেন। আমির হামজার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তবে স্থানীয়রা বলছেন, নূর ইসলাম গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। সোহাগ শেখ হত্যারও এখনো ক্লু মেলেনি। নতুন করে তৃতীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসন শান্ত রাখার চেষ্টা করলেও মানুষের মনে আতঙ্ক কাটছে না।

স্থানীয়রা বলছেন, গুলির ঘটনা বারবার ঘটছে, কিন্তু কোনো প্রতিরোধ নেই। নিহত আমির হামজার বাবা রুহুল আমিন মুন্সির কণ্ঠে ক্ষোভ—‘আমার ছেলের কী দোষ ছিল? তাকে পুলিশ সাজিয়ে বাড়িতে ঢুকে গুলি করল কেন?

প্রশাসন বলছে, সন্ত্রাসীদের শনাক্তে কাজ চলছে। তবে বারবার গুলির ঘটনা এবং দুর্বৃত্তদের বেপরোয়া আচরণে ভয় আর আতঙ্কের পাশাপাশি এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


বার বার গুলিবর্ষণে বাগেরহাটে উত্তেজনা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬

featured Image

গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তৃতীয়বারের মতো গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটলো বাগেরহাটে।চিতলমারীতে পুলিশ সেজে কলেজছাত্রকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে মোল্লাহাটে গুলিবিদ্ধ হয়ে ব্যবসায়ী নিহত হন। কয়েকদিন পর তার কর্মচারী গুলিবিদ্ধ হন।

দুই উপজেলায় তিনটি গুলির ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। মোল্লার হাটে ব্যবসায়ীকে গুলি করার পর লাশ মহাসড়কের পাশে, কয়েকদিন পর তার কর্মচারী বাজার থেকে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন। আর তৃতীয়টি ঘটেছে চিতলমারীতে। প্রত্যন্ত গ্রামে বাড়িতে ঢুকে পুলিশ সেজে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সন্ত্রাসীরা দিনের আলোতেও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার শিবপুর গ্রামে বিকেলে বাড়ির উঠানে বাবা-চাচার সঙ্গে কথা বলছিলেন আমির হামজা নামের কলেজছাত্র। হঠাৎ তিনটি মোটরসাইকেলে এসে হাজির কয়েকজন যুবক। মাথায় হেলমেট। পরিচয়- পুলিশ। ধাওয়া করে পাশের খালের পাড়ে গুলি করে চলে যায় তারা। খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের এই শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলেই মারা যান।

এই ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়। এটি বাগেরহাটের মানুষের মনে গভীর আতঙ্ক তৈরি করেছে। কারণ দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তৃতীয়বারের মতো এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটল।

এর আগে ১৪ মার্চ রাতে মোল্লাহাট উপজেলা সদর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন সোহাগ শেখ (৪২) নামের এক ব্যবসায়ী। স্থানীয়রা জানান, ব্যবসা নিয়ে কোনো বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।

ওই ঘটনার মাত্র সাত দিন আগে ৭ মার্চ রাতে একই উপজেলার কাহালপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় মহাসড়কের পাশ থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ওই ব্যবসায়ীর কর্মচারী নূর ইসলামকে (২৭)। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান স্থানীয়রা। প্রাণে বেঁচে গেলেও এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।

কলেজছাত্র আমির হামজার পরিবার বলছে, তাদের কারও সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। তাহলে কেন এলোপাতাড়ি গুলি? প্রশ্ন উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়েও।

ঘটনার পর বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শামীম হোসেন জানিয়েছেন, জেলা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা সন্ত্রাসীদের শনাক্তে কাজ শুরু করেছেন। আমির হামজার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তবে স্থানীয়রা বলছেন, নূর ইসলাম গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। সোহাগ শেখ হত্যারও এখনো ক্লু মেলেনি। নতুন করে তৃতীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসন শান্ত রাখার চেষ্টা করলেও মানুষের মনে আতঙ্ক কাটছে না।

স্থানীয়রা বলছেন, গুলির ঘটনা বারবার ঘটছে, কিন্তু কোনো প্রতিরোধ নেই। নিহত আমির হামজার বাবা রুহুল আমিন মুন্সির কণ্ঠে ক্ষোভ—‘আমার ছেলের কী দোষ ছিল? তাকে পুলিশ সাজিয়ে বাড়িতে ঢুকে গুলি করল কেন?

প্রশাসন বলছে, সন্ত্রাসীদের শনাক্তে কাজ চলছে। তবে বারবার গুলির ঘটনা এবং দুর্বৃত্তদের বেপরোয়া আচরণে ভয় আর আতঙ্কের পাশাপাশি এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত