এ সপ্তাহের কবিতা
লেবুপীঠশিহাব
শাহরিয়ার যেভাবে আছো ওটা তোমার
বিরুদ্ধ সময়১.আয়নারাও পালিয়ে বেড়ায়কাঠেরা খাঁটি রং বহন করেকেবল তুমিই লজ্জাবতীর মতো নিভে গেছ
একাতোমার কাছে তাই শুয়ে
থাকে স্কার্পের খয়েরি রং২.ঝড় উঠিয়ে বাতাস এলোমেলো করা যায়যেমন তুমি করো, করেছো!সন্ধ্যার অন্ধঝড়ে পাখিদের পাখা ওড়েকিন্তু কেউ তোমার মতো
গায়ের রঙ নিয়েপংক্তির নাম রাখে না—
‘বেদনার মলিন পাখা...’৩.প্রত্যাবর্তন নয়, বলো— ফিরে
আসবোতুমি বললে, আসবো— যদি আসি:‘আমাকে বালুডাঙার বাতাস কিনে দিওনা হলে বাতাবি লেবুর
ঘনপীঠ৪.চশমা ফেলে এসেছি...তোমার চোখে কবিতার পৃষ্ঠা
উড়াবোনা হলে রবীন্দ্রনাথের বাইশ
বছর কুড়াবো৫.শাহালিবাগের বারান্দা, কফিমগ, এগারোটাবন্দি থাক— ফেলে আসা
গলির ঘর্মাক্ত ঘাড়ে পরিশুদ্ধির
পেয়ালাআরিফ
মঈনুদ্দীন এন্তার নগ্ন নৈকট্য ঝেড়ে
ফেলেযারা এইমাত্র হাতে তুলে নিয়েছেনপরিশুদ্ধির পেয়ালা— তাতে যে তরলজায়গা করে নিয়েছে সেখানেই
চুমুক দেবেন তারাঅপেক্ষার চাদরে নিজেকে ঢেকে নিয়েদেখছেন একদিক দুদিক নয় ঈশান-বায়ু-অগ্নি-নৈঋতও,ঊর্ধ্বও অধঃও বাদ নেই সব দেখেশুনে কী করার আছে—
তানিয়ে বিবেচনায় চলছে হুলস্থুলক্ষণস্থায়ী এই বাসরে আনন্দ
সরোবরেডুব দেওয়ার আগেই তারা উঠে
এসেছে—অনন্তযাত্রার সরল পাথেয়পেয়ালার টলমল তরলে আঁকছে
নতুন জীবনযে জীবনের প্রারম্ভ সংগীত তারাই কেবল শুনতে পায় নৈঃশব্দ্যের শব্দ তরঙ্গে বাজে
বিউগলের করুণ সুর—তারাই শ্রবণেন্দ্রিয় তাক করে বসেছিলো
এতকালঅবশেষে বাজলো বলে তাআকাশপাতাল এক করেএই সুর ঢেলে দিয়েছেন
যিনি এসব তারই ক্ষমতা| এসো ইতিহাস লিখি ফারজানা ফেরদৌস এসো ইতিহাস লিখি রূপকথার মতো সে ইতিহাস
ফুলের সুবাস, নদীর ঢেউয়ের মতো ভাসান মেঘের উদার প্রেমের ইতিহাস| আলিঙ্গনরত বন্ধুর জড়ানো বুকের ইতিহাস| এসো ইতিহাস লিখি স্বর্গমুখী বাড়ন্ত বৃক্ষের ছায়ার দিকে তাকিয়ে দিনগুনে যায় যে নারী,
তার দেহ বেয়ে পড়ন্ত
রোদের ইতিহাস যন্ত্রণার নীল ত্বকে বিঁধে
থাকা সে নাকছাবির
ভর্ৎসনার ইতিহাস| এসো ইতিহাস লিখি সীমাহীন রাতের নিভে যাওয়া বাতির
শোকে মৃত জানালায় ঝুলে থাকা ক্লান্ত
চোখের ইতিহাস| রং চটা মনে উন্মোচিত
সেতুর পাটাতনে লোভ আসে প্রমত্ত চিৎকারে—
ফসলেরা কাঁদে অন্ধকারে কাঁদে গোলাঘর বাদুরেরা লীন আধপোড়া পাতার
ওপর| নষ্ট নগরীর জ্বলন্ত ভগ্নস্তূপে শব্দহীন আত্মাহুতি যেই প্রেম হাসি মুখে অপেক্ষায়
ছিল প্রেমিকের তার হতভম্ব মুখের ইতিহাস| ত্রিশূল হাতের অপেক্ষায় বহুদিন বহু যুগ ধরে
সময় বারবার উঠে দাঁড়ায় অতল
গহ্বর থেকে| সে যেন শোণিত প্রবাহের
ভরা নদী| এসো, প্রেম-বিরহের হাত ধরে শুদ্ধ
মানবিক আমাদের সেই ইতিহাস
লিখি| ঢাকাস্বপন আদিত্য একদিন ঠিক জানা হয়কতটা দুর্লভ ছিলোএ শহরে সেই বৃষ্টিমগ্ন
দুপুরগুলোনীলক্ষেত-সন্ধ্যের আলো|রাতের চিলেকোঠায় কিছু গল্পঅসমাপ্ত থেকেই হারিয়ে যায়আমাদের বয়স বাড়ে—একদিন ঠিকই জানা হয়কতটা দুর্লভ ছিলে তুমি| রক্তঋণের হিসাবখালেদ উদ-দীন আজও গরমের দিন— দগ্ধ হই,
দহন বয়ে বেড়াই;গতকাল ও আগামীর শিরায়ও
সেই আগুন বইবে|প্রিয় সিংহাসন, রক্তে রক্তে তোমার এই উৎসব—মানুষ পোড়ানোর নৃশংস আয়োজন১৮৮৬ থেকে আজও অবিরাম| হে মার্কেটের সেই আগুন নিভে
যায়নি—ছড়িয়ে পড়েছে কারখানায়, ক্ষুধার্ত ঘরের নিঃশ্বাসেশ্রমিকের অস্থিমজ্জায় জমে থাকা ক্ষোভে|হিসাবের খাতা খোলা— জমার
অঙ্ক শুধু বেড়েছেঅথচ, রক্ত আর ঘামের
কালি দিয়ে লেখাএই সভ্যতার প্রতিটি অর্জন|এখানে প্রেম নির্বাসিত, স্বপ্নগুলো শিকলবন্দি;অদেখা হাহাকারের গভীর খাদেজন্ম নেয় প্রতিরোধের পতাকা|তাই বলি—শোষণের সামনে নতজানু জীবন নয়;রুখে দাঁড়াও, ভেঙে দাও এই
মিথ্যা সিংহাসনরক্ত-নিশান উড়িয়ে দাও আকাশজুড়ে|শতাব্দীর পর শতাব্দী রক্তে
ভেজা ইতিহাস;আর না এবার হিসাব
বুঝে নেওয়ার পালাএবার প্রতিটি ঋণের জবাব চাই,
সরাসরি| অফুরান সম্ভাবনা নিয়ে স্পষ্ট কণ্ঠে
বলি—সকল ˆবষম্যের অবসান চাই, এবং এখনই!মানুষের মুক্তি ও জয়ই হলো
শেষ সত্য| অঙ্কিত সংঘাতআমেনা তাওসিরাত বারুদের সন্ধিতে দানোৎসব,স্পর্শাতীত ধ্বংসস্তূপেরথিয়েটারে দ্ব্যর্থহীন ষাঁড়েরা| প্রলোভিত পরীক্ষকেরাসুপ্রাচীন সভ্যতাকেউলসথর্প ম্যানরের ঐতিহাসিক গাছেরপড়ন্ত আপেল ভেবেছেন| ঔজ্জ্বল্য ভেঙে ডিমের অন্তঃকরণেঅন্ধ শ্বাপদ পেয়েপ্রকৃষ্ট সঙ্গীরা আর কাঁদেনি| স্বর্ণকেশী পেপারওয়েটে সঙ্গীত চেপে,উত্থান আর উন্মত্ততায়শ্বাসরুদ্ধ উত্তরণ, কিংবা উত্তোলন| প্রাচীনতম উপকথার মতোসিঁথি না কেটেমধ্যপ্রাচ্যের শৈশব,শাশ্বত প্রাণেরাঅনড় হয়ে গেছেশোকার্ত সমাধিতে| বার্ধক্যজনিত মস্তিষ্কে, দ্বীপপুঞ্জে—মানবসভ্যতা নয় রাজহংস,প্রাচুর্যের অদূরদর্শী সংহার| বিত্তীয় করিডোরের অগভীর তলদেশেকুঁজওয়ালা ডলফিনের লাজুক শিকার,স্বর্ণাভ মুক্তার ঝিনুক,সমুদ্রগাভী, রুপালি মাছ;প্রবালপ্রাচীর ও সপুষ্পক সমুদ্রঘাস,আর পারস্য উপকূলীয় অরণ্যেরঅগণিত অভিবাসী পাখিদেরবিপন্নতাযুদ্ধ বলে না দৃঢ়
কণ্ঠে| তীরবর্তী অন্তিম ঘণ্টাধ্বনিতেবিস্মরণ আর বাস্তবতায়,উচ্চবর্ণের পতাকাআত্মাভিমানে পাণ্ডুর| অজ্ঞানতা আর তেলের আস্তরণেজল জহর হয়ে যায়| শব্দের উৎসফারহানা রহমান শুধু মৌনতায় কথা বলোশুধু মায়ায় বেঁধে রাখোআমাদের খুব কাছে দ্যাখোআগল ভেঙেছে কেউতখনো তো আমি জেগে
থাকিনিস্তব্ধ একাকী মেঘে ঘেরা মধ্যরাতেএকা একা সঙ্গীত শয্যায়!সারি সারি ফুলের উড়নি
গাঁথা ঝাউবনগাছের মাথায় স্তব্ধ হয়ে থাকে মৃতআত্মার শরীরগোঙানির মতো শীতের পতিতভূমির উপর ঝুঁকে থাকেগুচ্ছ গুচ্ছ আঙুরের অভিজাত থোকাসজীব শিশিরে পাতাগুলোকেমন লুকিয়ে রাখে শিরা-উপশিরাএভাবে ঘুমিয়ে আছেতোমার ভিতর অন্ধ মানবতাতখনো কেবল তুমি বলে
গেছোনিজের কথাই আর ঝরা
পাতায় ঢেকেছেআমার নৈঃশব্দ্য! তবু ছমছম বৃষ্টিতেনিজের ঘরেই অনাহূত আমিব্যথায় ভিজেছে রক্তাভ হৃদয়তাবুতবু হেঁটেছি, হেঁটেছি আমিঅচেনা মোহন শব্দের ঘ্রাণের
খোঁজে... বোশেখের দুপুরেবাবুল আনোয়ার বোশেখের দুপুরে পাশাপাশি দু’জনহুডখোলা রিকশায় দুলছিল মনমৃদু বাতাসে তোমার উড়ছিল চুলনীরবতার ফানুসে উসখুস সারাক্ষণযে কথা হয়নি বলা
সঙ্গোপনে ছিলসে কথায় মুখর ছিল
যুগল সংগীতশহরের রাজপথ ছেড়ে কিছুটা দূরেমিশে গেছে যেখানে সুরেলা
অতীত| শুভ কামনা সততমাসুম মোরশেদ গতকাল তুমি মজলুম ছিলেআজকে যদিবা জালিম হওজনগণমন ভরসা হারায়মানুষ তখন মানুষ নও| দিনগুলো সব খেয়াল রাইখোমাঘ যায় নাই হইয়া
শেষফিরে যদি আসে সেসব
দিবসঅনুমান করো তা ছিল
না বেশ| যেই পথরেখা প্রাণদায়ী সুখদেখিয়ে নিয়েছো আমার ভাররক্ষা করার দায়বদ্ধতাস্বহস্তে নিলে আরেকবার| উদগ্র তাড়া দেখেছি তোমারনিশ্চয় সব মেটাবে আশঠিকঠাক হোক সবকিছু তার
না হোক তা আর
সর্বনাশ|